পরজীবী

শরীরটা এখনও পুরোপুরি ভালো না। থেকে থেকে ঘাড়ের ব্যথাটা বড্ড ভোগাচ্ছে। সকালবেলা চোখ খোলার পরেও ঘুম থেকে উঠতে আধঘন্টা কখনওবা পুরো ঘন্টা লেগে যায় কখনো। ঘাড়টাকে বিছানা থেকে তুলতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয় কিছুক্ষণ। ঘাড় নাড়াতে গেলে কড়মড়ে একটা শব্দ শুনতে পাই। এরপর ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করে৷ ডাক্তার অবশ্য বলেছিলো নিয়মিত ব্যায়াম করা ছাড়া আর কোন দীর্ঘস্থায়ী ওষুধ নেই৷ আলসেমি করে সেও ছেড়ে দিয়েছি শীত পড়তে শুরু করেছে পর থেকে। প্রাত্যহিক যুদ্ধ শেষে কফির মোকাটা চুলোর উপর বসিয়ে প্রাতঃকৃত্য শেষ করি। প্রথমে ভেবেছিলাম ব্যথাটা বোধহয় কফির জন্যই হচ্ছে। তখন কফি খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু ডাক্তার আস্বস্ত করলো ব্যথার সাথে কফি খাওয়ার কোন সম্পর্ক নেই৷ তখন থেকে শুরু হয়েছে লিটার লিটার কফি পান৷ কফি হয়ে গেলেই বসে পড়ি টেবিলে।...

December 10, 2020 · 4 min · Soaib

শ্রিভবুগেন (Schwibbögen)

গতবছর যখন কেমনিটজ এসেছি তখন ঠিক ক্রিসমাসের আগের মুহূর্ত। শরতকে বিদায় জানিয়ে মাঘের সন্যাসী আসি আসি করছে। রংবেরঙের মৃতপ্রায় পাতায় গাছে গাছে যেন আগুন লেগে আছে। হলুদ-কমলা রঙেরও যে এত রকম রঙবিন্যাস হতে পারে এখানে না আসলে বোধহয় জানাই হতো না। ক্রিসমাসকে ঘিরে চারিদিকে উৎসবের আমেজ। তাছাড়া সদ্য ইউরোপ এসেছি। যা দেখি চোখের সামনে সবকিছুই অকল্পনীয় সুন্দর মনে হয়। কোন চিন্তা নেই, কোন পিছুটান নেই; দিনে গোটা দুয়েক ক্লাস আর বিকেল থেকে রাত অবধি শহরের পথেঘাটে বাউন্ডুলেপনা। বেশ চলছিলো এমনই। এরপর কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধীরে ধীরে নেমে এলো শীত। বাহারী পাতারা অদৃশ্য হলো নিমেষেই। গোটা উপত্যকা পরিনত হলো এক রুক্ষ, শ্রীহীন, বাদামী মরুভূমিতে। বাতাসে এক অদ্ভুত বিষন্নতা।...

December 10, 2020 · 4 min · Soaib

কুমারী, উত্তর দাও তুমি!

মেঘদলের প্লে লিস্ট খুললে প্রথমেই দোটানায় পড়ি যে ‘নির্বান’ শুনবো নাকি ‘কুমারী’ শুনবো। দুইটি গানের কম্পোজিশনই আমার কাছে অসাধারন মনে হয়। এতোদিন জানতাম ‘কুমারী’ গানের কথা ও সুর মেঘদলের মৌলিক। কিন্তু সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুবাদ পড়তে গিয়ে জানতে পারলাম এটি ফরাসী কবি রেনে গী কাদু'র (René-Guy Cadou) লেখা কবিতা, যার অনুবাদ করেছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। যদিও পুরো কবিতাটির বাংলা অনুবাদ হয়ত তিনি করেননি। কিন্তু অনুবাদিত অংশটুকুতেই পরবর্তীতে সুর বসিয়েছেন শিবু কুমার শীল।...

November 19, 2020 · 3 min · Soaib

মানুষ বাঁচাই

নগরের এই শহুরে শরীরে উৎসব গামী কিংবা উৎসব ফেরত মানুষের শব্দের মিছিল। কত শব্দ, কত কোলাহল, কত উন্মাদনা। এত কিছুর ভীড়েও নিরবে, নিঃশব্দে শরীরটাকে নিজের রিক্সায় এলিয়ে দিয়েছেন জালাল মিয়া। কি আর করবেন! সারাদিন পরিবারের, সমাজের, রাষ্ট্রযন্ত্রের বোঝা বইতে বইতে যে বড্ড ক্লান্ত তিনি, বড্ড পরিশ্রান্ত। রাত আড়াইটে। হাসপাতালের সিসিইউ’র বাইরে লোহার শক্ত চেয়ারে বসে থাকতে কোমড় শক্ত হয়ে গেছে। একটু হাঁটাচলার জন্য বাইরে দেখতে পাই জালাল মিয়াকে। নিজের রিক্সার হুডে মাথা রেখে আধশোয়া হয়ে ঘুমাচ্ছেন। সামনে পড়ে আছে গোবর ও ডাস্টবিনের ময়লা। সেই তীব্র ঝাঝালো গন্ধের মাঝেও ঘুমাচ্ছেন অঘোরে।...

May 1, 2019 · 3 min · Soaib

প্রযত্নে অবন্তিকা

বসুন্ধরা, ঢাকা ১লা বৈশাখ, ১৪২৬ প্রিয় অবন্তীকা, তোর মনে হতে পারে প্রিয় বলে প্রথমেই ভুল করে ফেললাম। যে মানুষ নিজের সন্তানকে গর্ভে নিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে, সে আর যাই হোক প্রিয় হতে পারে না। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে তুই সেই প্রিয় স্থানটিই দখন করে বসে আছিস। কারণ আর কেউ না জানুক আমি তো জানি জীবনের কি করুণ পরিহাস তোকে সেই নরককুণ্ডে নিয়ে ফেলেছিলো। তাইতো বিশ্বাস করি তুই আত্মহত্যা করিসনি, তোকে খুন করা হয়েছে। আর তোর খুনীদের তালিকা করতে দিলে আমি নিজের নামটাও সেই তালিকায় রাখতে চাই। হ্যাঁ, আমিও তোকে খুন করেছি। খুন করেছি সেদিন যেদিন তুই বলেছিলি, ‘অভ্র, তুই কি কখনো আমাকে ভালোবেসেছিস?...

April 14, 2019 · 5 min · Soaib

মৃত্যু সম্পর্কে আমার অবস্থান পরিষ্কার

‘মৃত্যু সম্পর্কে আমার অবস্থান খুব পরিষ্কার’-শিরোনামে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যক শাহাদুজ্জামানের একটি ছোট গল্প রয়েছে। গল্পের বক্তব্য এমন- গল্পের চরিত্র পলাশের বাবা মৃত্যুশয্যায়। তাকে রাখা হয়েছে আইসিইউ-তে, লাইফ সাপোর্টে। চেতনা বলতে পলাশ প্রতিদিন বাবার কানের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে, বাবা আমি পলাশ, চিনতে পারছেন। মৃত্যুপথযাত্রী বাবা সামান্য ঘাড় নাড়েন। এইটুকুই। ডাক্তার বলতে পারছেন না তিনি বাঁচবেন কিনা। বাঁচার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। আর এই ঘাড় নাড়াটুকুর মূল্য প্রতিদিন চল্লিশ হাজার টাকা। এভাবে হয়ত সে এক সপ্তাহ সার্ভাইভ করতে পারেন। আবার এক মাসও সার্ভাইভ করতে পারেন। প্রতিদিনকার এই বিপুল অঙ্কের টাকার যোগান দিতে দিতে পলাশ হয়তো নিঃস্ব হয়ে যাবে। কিন্তু দ্বায়িত্ববোধ, সামাজিকতা, নৈতিকতা আর মায়ার জাল ছিঁড়ে সে বের হতে পারে না। তার মনে পড়ে যায় বাবার সাথে তার ছেলেবেলার কথা। সেসব তাকে স্মৃতিকাতর করে দেয়। তাই সে বাধ্য হয়েই এই নিঃস্ব হবার পথ ধরেছে।...

April 10, 2019 · 5 min · Soaib

নিষ্ঠুরতার ভালোবাসা

শরীরটা এখনো ভালো না। থেকে থেকেই মাথা ঝিমঝিম করে উঠছে। চার দেয়ালের রুমটা ছেড়ে বের হয়েছি অনেকদিন পরে। অনেকদিনের ঘরবন্দী মানুষ হটাত বের হয়ে আকাশ দেখলে আকাশের বিশালতা তার ভালো লাগে। সে বিশাল নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে কি কি যেন ভাবতে পারে আনমনে। টং এ বসলাম চা খেতে। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। গত ছয় বছরে আপন বলতে এই চা আর সিগারেট। অনেকে ছেড়ে গেছে অনেককে ছেড়েছি, শুধু ছাড়তে পারিনি এই দুই জিনিস। পাশেই রাস্তায় ছুটে চলছে অনেক মানুষ। রিকশায় কিছু কপোত-কপোতি হুড তুলে মুখ লুকিয়ে যাচ্ছে। সেগুলোও যেন কিছু ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। তারা এভাবেই যাবে যেন আমি জানতাম।...

March 29, 2019 · 3 min · Soaib

ভালোবাসা দিবস

রাত্রি দ্বিপ্রহর। যান্ত্রিক এই নগরের অধিকাংশ মানুষ সারাদিন বসন্ত উৎসবের আমেজে মেতে ক্লান্তি আর অবসাদে ঘুমিয়ে। রাস্তার সোডিয়াম বাতির মৃদু আলোতে দু' একটা কুকুর ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ছে না। মৃত্যুর মত নীরবতা। ঠিক তখনই প্রিয় মানুষটা আইসিইউ-তে, লাইফ সাপোর্টে। তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে পরিবারের সকল সদস্যরা। কমবেশি সবাই বৃদ্ধের স্বাভাবিক মৃত্যুর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। বয়সতো আর কম হলো না! কিন্তু তখনও শিয়রে বসে থাকা বৃদ্ধা স্ত্রী হার্টবিটটা কখন থেমে যায়, স্ক্রিনে মিটিমিটি করে লাফাতে থাকা লাইনটা কখন সরল রেখায় পরিণত হয় সেই আতংকে চোখ মুছছেন বারংবার। বৃদ্ধ স্বামীর স্বাভাবিক মৃত্যুটাও যেন আরেকটু দীর্ঘায়িত হয় তার প্রার্থনা করে যাচ্ছেন প্রতি নিঃশ্বাসে।...

February 13, 2019 · 3 min · Soaib

দিকভ্রান্ত হিমু

- চাকরী-বাকরী কিছু করো? - না, আঙ্কেল। - হুম, সেটাই ধারনা করেছিলাম। - জ্বী, আঙ্কেল। - তাহলে জীবন চলছে কি করে? - খেয়ে আর ঘুমিয়ে, আঙ্কেল। - অসাধারণ! তবে তো তোমার জীবনে অনেক ব্যস্ততা। এর মাঝে প্রেম করার সময় হয় কি করে? - সময় হয়না তো, আঙ্কেল। এই নিয়েই তো ঝগড়া লেগেই থাকে। এই তো কাল রাতেও ঝগড়া হলো, আঙ্কেল। - ঝগড়া করার সময় হয়? - জ্বী, আঙ্কেল, তা হয়।...

December 3, 2018 · 3 min · Soaib

অসামাজিক

এই গ্রহটা, এই শহরটা অনেক বেশী স্বার্থপর। এখানে প্রতি মূহুর্তে আপনাকে শুধু দেখাতে হবে, ‘শো অফ’ করতে হবে। আপনি যতক্ষন না হাঁকিয়ে বেড়াবেন, দেখিয়ে বেড়াবেন আপনার নীরব পরিশ্রমের মূল্য কেউ ততদিন দিবে না। আপনাকে প্রতি মূহুর্তে আশপাশের মানুষকে ধাক্কা দিয়ে বুঝাতে হবে আপনি তার জন্য অনেক পরিশ্রম করছেন। প্রতিটা নিঃশ্বাসে জানান দিতে হবে আপনি তার সকল দায়িত্ব মাথায় নিয়ে নিয়েছেন। বাস্তবিক পক্ষে নিয়েছেন কিনা সেটা এখানে মূখ্য বিষয় নয়। এখানে অন্তর্মূখীতার কোন স্থান নেই। আপনার অন্তর্মূখীতার ঋন আপনাকেই পরিশোধ করতে হবে- ক্ষয়ে-ক্ষয়ে, সয়ে-সয়ে।...

October 22, 2018 · 2 min · Soaib