হারম্যান বুল, পর্বতারোহনের পাইওনিয়ার যুগের পথিকৃৎ, পর্বতারোহণ জগতে যিনি পরিচিত নাঙ্গা পর্বতে সর্বপ্রথম আরোহণকারী হিসেবে, তাকে যদি পর্বতারোহণের অনন্য কিংবদন্তী বলা হয় তবে খুব বেশি বোধহয় অত্যুক্তি করা হবে না। বরং কমই বলা হয়ে যাবে। ১৯২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অস্ট্রিয়ার ইন্সব্রুক শহরে জন্ম গ্রহন করা বুলের একখানা বায়োগ্রাফি ঘরানার বই-ই বলা চলে ‘নাঙ্গা পর্বত পিলগ্রিমেজ’ বা ‘নাঙ্গা পর্বত তীর্থযাত্রা’ বইখানাকে যেখানে বুল নিজের জীবনের সমস্ত আরোহনকে, স্বীয় অভিজ্ঞতাকে অক্ষরবন্দী করে গিয়েছেন সাবলীলতার সঙ্গে।


কোনরকম বোতলজাত কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া, সর্বপ্রথম একাকী, কোন আট হাজারে মিটারেরর বেশি উচ্চতার পর্বত আরোহণ করে হারম্যান বুল যে ইতিহাস গড়েছিলেন তারই আদ্যোপান্ত বর্ণানা করা হয়েছে। বুল শুধু সামিটেই পৌঁছাননি, সন্ধ্যা ৭ টায় সামিট করায় ফেরার সময় রাতটা ডেথজোনে অসীম সাহসিকতার সাথে পর্বতের ঢালে দাঁড়িয়ে বিভুয়াক করে কাটিয়ে দিয়েছেন। শারীরিক সহ্যশীলতার দিক দিয়ে বিবেচনা করলে বুলের নাঙ্গা পর্বত আরোহণ তেনজিং ও হিলারীর এভারেস্ট আরোহণ থেকেও বেশি তাৎপর্য বহন করে।


‘নাঙ্গা পর্বত পিলগ্রিমেজ’ নাম থেকে ১৯৫৩ সালের জার্মান অভিযাত্রীদের নাঙ্গা পর্বত অভিযানের বর্ণনা লিপিবদ্ধ থাকবে ধারনা করা গেলেও বইটিতে বুল তার শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের বেড়ে ওঠা পরিবেশ, দারিদ্রতা, পর্বতারোহণেরর সাথে যুক্ত হওয়া সকল কিছুই উল্লেখ্য করেছেন। মাত্র চার বছর বয়সে মাকে হারিয়ে এতিমখানায় আশ্রয় নেয়া, পর্বতারোণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি না থাকায় কখনো দড়ি কিনতে না পেরে মায়ের কাপড় শুকাতে দেয়া দড়ি নিয়ে, কখনও জুতা না থাকায় শুধু মোজা পড়ে পাহাড়ে দৌড়ানো নতুন পর্বতারোহীদের জন্য নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণীয়।


শৈশবের পরে কৈশোর ও যৌবনে একের পর এক নতুন সঙ্গীদের নিয়ে আল্পস পর্বতমালার ভিন্ন ভিন্ন পর্বত, ভিন্ন ভিন্ন রুটে আরোহন করা, পর্বতের প্রতি তার ভয়, শ্রদ্ধা বর্ণনা করেছেন নির্বিকারভাবে। হারম্যান বুল হয়ত খুব ভালো মানের কোন লেখক না, তার গল্প পাঠের সময় পাঠক হয়ত বারবার খেই হারিয়ে ফেলবে কিন্তু তার জীবনী পাঠককে, আধুনিক পর্বতারোহীদের অবশ্যই অনুপ্রেরণা যোগাবে।


‘নাঙ্গা পর্বত পিলগ্রিমেজ’এর মূল আকর্ষণ নাঙ্গা পর্বত অভিযান। এই অভিযানের সাথে যুক্ত হওয়া থেকে শুরু করে বিধ্বস্ত হয়ে সামিট থেকে ফিরে আসা, মাঝ পথে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা বুল তুলে ধরছেন এখানে। বইয়ের এই অংশটিকে নাঙ্গা পর্বত অভিযানের সামিট রিপোর্ট বললেও ভুল বলা হবে না। কেউ যদি সত্যিকার অর্থে পর্বতকে ভালোবেসে থাকে, পর্বতারোহনকে ভালোবেসে থাকে তার কাছে বইটি তথ্যবহুল ও যথার্থই মনে হবে। কিন্তু সাধারণ পাঠকদের কাছে এটি নিতান্তই একটি শব্দভারাক্রান্ত বা বাগবহুল বই।


 


বই সম্পর্কিত তথ্যাবলীঃ নামঃ নাঙ্গা পর্বত পিলগ্রিমেজ

লেখকঃ হারম্যান বুল

অনুবাদঃ হগ মেরিক

প্রকাশনী: ব্যাটন ভিগস

প্রকাশকাল: ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫৩